এসএমএস নজরদারি প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ ৭ দফা দাবি দিলো সিসপ্যাব

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৮:২৮  

জাতীয় নিরাপত্তার নামে মুঠোফোনে বার্তা বিনিময়ের নজরদারি করতে মধ্যস্তকারবারী হিসেবে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করছে এনএমপি প্রতিষ্ঠান ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বাংলাদেশ। এজন্য আবার প্রতিষ্ঠানটিকে এসএমএস প্রতি ব্যবসায়ীদের দিতে হয় ৫.৭৫ পয়সা। গত বছরের ১৬ মে থেকে নিয়ন্ত্রক কমিশনের একটি আদেশের মাধ্যমে সরকারির মদদপুষ্ট এই কোম্পানিটি এককভাবে এই কাজটি করছে। এতে সেবার মান নষ্ট হওয়া ও আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাও লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে দাবি করছে এসএমএস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসেয়শন অব বাংলাদেশ (সিসপ্যাব)।

এজন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি ভবনের নিচে এগ্রিগেটর থেকে ব্যক্তির কাছে এসএমএস পাঠানোর ক্ষেত্রে কমন আন্তঃযোগাযোগ প্লাটফর্মটি কিভাবে এই খাতকে পঙ্গু করে দিচ্ছে সে বিষয়ে অভিযোগ তুলে ৭ দফা দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠিনটির শতাধিক ব্যবসায়ী। বিক্ষোভ শেষে সংগঠনের সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ ও সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল বিটিআরসি ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে থেকেই তাদের দাবি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়ে সচিবের সঙ্গে আলাপ করেন বিটিআরসি ভাইস চেয়ারম্যান। এসময় তিনি বলেছেন, আমি পুরো টেকনিক্যাল বিষয়টি ভালো বুঝি না। তবে বিষয়টি গুরুতর হওয়ায় মন্ত্রণালয়কে অবহিত করলাম। আইনের মধ্যে থেকে বিটিআরসি আপনাদের দাবি পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

সিসপ্যাব উত্থাপিত দাবির মধ্যে এটুপি এসএমএস কমন ইন্টারকানেকশন প্লাটফর্ম বাতিল করার পাশাপাশি এই নজরদারি কাজে দোসর ও দুর্নীতিবাজ বিটিআরসি’র কর্মকর্তাদের অপসারণ, ট্যারিফ নির্দেশনায় কারিগরি ত্রুটি থাকায় তা বাতিল, বাংলা ভাষায় এসএমএস দেয়ার বাধ্যবাধ্যকতা প্রত্যাহার, কন্টেন্ট ভলিডেশন সিস্টেম বাতিল, রেভিনিউ শেয়ার ও কল্যাণ তহবিলে চাঁদা দেয়া বন্ধ করণ এবং আন্তর্জাতিক এসএমএস সঞ্চালনার অনুমতি দেয়া।

এটুপি এসএমএস কমন ইন্টারকানেকশন প্লাটফর্ম বাতিল বিষয়ে জানতে চাইলে এসএএসপিএবি সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ বলেন, এই পদ্ধতি অবৈধভাবে এসএমএস এ নজরদারি করে। তারা আমাদের কাছ থেকেই নয়; ব্যাংক ও সরকারি সেবায় ব্যবহৃত ওটিপি’র মাধ্যমে ব্যক্তি গোপন কোড নম্বর জানার পাশাপাশি সরকারি অর্থও লুটপাট করছে। তাই আমরা এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তদন্ত করা সহ এদের অবিলম্বে নিষিদ্ধের দাবি জানাচ্ছি।

এসএমএস ব্যবসায়ীদের দাবি, সাবেক সরকারের আইসিটি উপদেষ্টার নামে চলা ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বাংলাদেশ নামের এনএমপি প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাস এর নামে বিটিআরসি’র কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসএমএস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রীতিমতো চাঁদাবাজি করে আসছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাতে অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

তথ্য-প্রমাণ বলছে, খোদ কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার অভিযুক্ত কোম্পানিটি নিয়ে উচ্চ বাচ্য না করতে সিসপ্যাব নেতাদের শাসিয়েছেন। তাদের সতর্ক করে বলেছেন, আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কোম্পানিটি কাজ দেয়া হয়েছে। উপায়ন্তু না দেখে সরকার পতনের পর গত মাসেই এ নিয়ে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করে বৈঠক করেন এসএমএস সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযোগ তদন্তে বিটিআরসি’র মহাপরিচালক আশীষ কুমার প্রধান করে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। বেধে দেয়া সময়ের মধ্যেই কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করায় নতুন বাংলাদেশেও বহাল তবিয়তে ব্যবসায় করে তারা দেশের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তায় হুমকি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা এক হয়ে এসএমএস ব্যবসাকে বাঁচাতে সংস্কারের দাবি করছেন।